নারায়ণগঞ্জ প্রতিদিন:
নাগরিক সেবার মান ও গতি বাড়াতে এবং সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানি কমাতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এখন থেকে প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)। উদ্ভূত সমস্যার দ্রুত ও কার্যকরী নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে।
গত ১ জুলাই সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গণশুনানিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহের বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা গণশুনানির জন্য নির্ধারিত থাকবে। এই সময়ে সাধারণ নাগরিকেরা সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো হয়রানি, গাফিলতি বা প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে সরাসরি জেলা প্রশাসকের মুখোমুখি হতে পারবেন এবং তাদের অভিযোগ, সমস্যা ও আবেদন জমা দিতে পারবেন।
গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, প্রথম দিনে আমি নিজে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ১০ থেকে ১২ জন সেবা প্রত্যাশীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি। তাদের সমস্যার কথা শুনেছি এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। যদিও পুরো সপ্তাহজুড়েই আমাদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান থাকে, তবে এই নির্দিষ্ট দুই ঘণ্টা আমি একান্তভাবে সাধারণ জনগণের কথা শোনার জন্য নির্ধারণ করেছি।”
তিনি আরও যোগ করে বলেন, “জেলা প্রশাসনের দরজা সবসময় জনগণের জন্য উন্মুক্ত। যেকোনো নাগরিক প্রয়োজন মনে করলে কোনো মধ্যসত্ত্বভোগী বা দালালের সহায়তা ছাড়াই সরাসরি এসে অভিযোগ বা আবেদন জানাতে পারবেন।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে সম্পূর্ণ জবাবদিহিতামূলক ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডিসি জানান, পর্যায়ক্রমে এই উদ্যোগকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে। জেলা সদরের পাশাপাশি জেলার প্রতিটি উপজেলা পর্যায়েও প্রতি বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একই সময়ে গণশুনানির ব্যবস্থা চালু করা হবে। সেখানে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। যাতে সাধারণ মানুষ এক জায়গাতেই তাদের যাবতীয় সমস্যার সমাধান বা দিকনির্দেশনা পেয়ে যান।
জেলা প্রশাসনের এই গণমুখী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সুশীল সমাজ ও সাধারণ নাগরিকেরা। তাদের মতে, মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার সাথে সাধারণ মানুষের এই সরাসরি যোগাযোগের ফলে সরকারি দপ্তরগুলোর স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সেবা প্রাপ্তিতে ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক প্রসঙ্গে একাধিক গণমাধ্যম কর্মীরা বলেন, ডিসি রায়হান কবির অত্যন্ত মেধাবী ও চৌকস একজন কর্মকর্তা।
মাঠ পর্যায় একজন ডিসির সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা থাকলেও দেশের অনেক জেলার ডিসিদের রুমে সেবা গ্রহীতা ও ভক্তভোগীরা ঢুকতে পারেনা কিংবা ডিসিদের দেখা পায়না। এমনকি অনেক ডিসি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত। সেক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের ডিসি ব্যাতিক্রম।
তিনি আসার পর থেকে সেবার মান উন্নয়নের জন্য ব্যাপক চেষ্টা করে চলেছেন। তবে সাপ্তাহিক গনশুনানীতে জেলাবাসী আরও কাঙ্ক্ষিত সেবা গ্রহণ করার পাশাপাশি জবাবদিহিতামূলক ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন জেলা সদর মহল।
Leave a Reply