নারায়ণগঞ্জ প্রতিদিন:
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন তক্কার মাঠ এলাকা থেকে ব্যবসাইয়ী দেলোয়ার হোসেন দিলুকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে জিম্মি ও ভয়ভিতি প্রদর্শন করে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপন আদায়ের অভিযোগ তুলে ফতুল্লা থানার কৃষক দলের আহব্বায়ক জুয়েল আরমানকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ২৫ জুন দুপুর ৩ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন দিলু ও তার পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দেলোয়ার হোসেন দিলু, ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে একপর্যায়ে কান্নায় ভেজ্ঞে পরেন তিনি।
তিনি বলেন গত শনিবার ২০ জুন রাতে ফতুল্লা থানাধীন তক্কার মাঠ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে ফতুল্লা ডি আই টি মাঠে নির্জন স্থানে জুয়েল আরমানের মালিকানাধীন একটি সাদা রঙ এর নোয়াহ গাড়ীতে ভুক্তভোগীকে জিন্নি করে বিভিন্ন প্রকার হুমকী সহ প্রাণ নাশের হুমকী প্রদান করে বলে এই মুহুর্তে দশ লক্ষ টাকা দিতে হবে না হলে তোর অনেক বিপদ হবে। জীবন বাঁচিয়ে সুষ্ঠভাবে ব্যবসা করতে হলে এ টাকা দিতেই হবে। অনেক ভয় ভিতির কারনে জীবন বাঁচাতে আমি আট লক্ষ টাকা দিতে রাজি হই। আমার পরিচিত প্রতিবেশী ব্যবসায়ী কুদ্দুস ভাইয়ের মাধ্যমে আমার বাসা থেকে নগদ তিন লক্ষ টাকা ও আমার সাক্ষরিত পূবালী ব্যাংকের পাঁচ লক্ষ টাকার চেক ( চেক নং-০৯২৫১৩৩) আনিয়ে তাদেরকে দেই । পরে মুক্তিপনের মোট ৮,০০,০০০ (আট লক্ষ) পেয়ে রাত ১১টার দিকে আমাকে ছেড়ে দিলে বাসায় চলে আসি ।
এ ঘটনা দেলোয়ার হোসেন দিলু বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এবং পুলিশ মহা পরিদর্শক দপ্তরে পৃথকভাবে দুটি অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন দিলু জুয়েল আরমানকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান । এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি। সেই সাথে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক নেয়া ৩ লক্ষ টাকা ও ৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধারের দাবিও জানান তিনি। বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন দিলু, জুয়েল গংদের আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়।
তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন আমি শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী বিএনপি সমর্থিত একজন ব্যাক্তি এবং আমি ২০২৩ইং সালে ঘোষিত কুতুবপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন নির্বাহী সদস্য।
৫ই আগষ্টের পরে জুয়েল আরমানসহ স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা আমার নিকট মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে। আমি তাদের দাবী অনুযায়ী টাকা প্রদান না করিলে তারা আমাকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে। যাহা হইতে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য গত ২৩/১০/২০২৪ইং তারিখে নারায়গঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য একটি পত্র দেই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফতুল্লা থানা কৃষক দলের আহ্বায়ক জুয়েল আরমানের সাথে মোঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, জমি ব্যবসার জন্য আমি দেলুকে টাকা দিয়েছি সেই টাকা থেকেই আমাকে ৩ লাখ টাকা ফেরত দেয় এবং বাকি পাঁচ লাখ টাকার চেক দিয়ে ও এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। আমি ওর বিরুদ্ধে চেক জাল জালিয়াতের মামলা করবো। এবং তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।
Leave a Reply