নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাঞ্চল্যকর অটোরিক্সা চালক মোমিন হত্যা মামলার আসামি শাহিন কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।
মামলার ঘটনার পর হতে উক্ত আসামি আত্নগোপনে চলে গেলে আসামির অবস্থান নির্নয় করে গ্রেফতার করার জন্য ‘বি’ সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ এর তত্ত্বাবধানে সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম সারোয়ার এর নেতৃত্বে ৩ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে রাত আনুমানিক ২ টায় মেঘনা থানা পুলিশের সহায়তায় উক্ত আসামিকে ফ্রেশ কোম্পানীর প্রতিষ্ঠানের ভিতর হতে আটক করা হয়।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মোঃ মোমিন (৪৫) দীর্ঘদিন যাবৎ সোনারগাঁও থানাধীন দড়িকান্দি হতে বাংলাবাজার এর রাস্তায় অটো রিক্সা মিশুক গাড়ী চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। আসামি শাহিন (৪২), পিতা- নওশের আলী, মাতা- রহিমা বেগম, সাং- দড়িকান্দি, ইউপি- সনমানদি, থানা- সোনারগাঁও, জেলা-নারায়ণগঞ্জ দড়িকান্দি স্ট্যান্ডে অটো রিক্সার লাইন ম্যান হিসেবে কাজ করতো। সেই সুবাধে মোঃ মোমিনে সাথে আসামি শাহিন (৪২) এর বিভিন্ন বিষয়াদী নিয়ে মনোমালিন্য হতো বলে জানা যায়। গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর অনুমান ৩ টার সময়ে সোনারগাঁও থানাধীন দড়িকান্দি সাকিনস্থ দড়িকান্দি সিএনজি স্ট্যান্ডের পার্শ্বে ডিসিস্ট মোঃ মোমিন (৪৫) জীবিকার উদ্দেশ্যে তার অটো রিক্সা নিয়ে অবস্থান করাকালে অটো গাড়ীর সিরিয়াল দেওয়াকে কেন্দ্র করে আসামি শাহিন (৪২) ডিসিস্ট মোঃ মোমিন (৪৫) এর মাথায়, মুখে ও গলায় এলোপাথারী ভাবে চর থাপ্পর, কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এর ফলে তার নাক, কান ও ব্রেনে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মাথায় রক্তক্ষরণ ঘটে। এসময় ডিসিস্ট মোঃ মোমিন (৪৫) ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ডিসিস্ট মোঃ মোমিন (৪৫) অজ্ঞান থাকা অবস্থায় আসামি শাহিন (৪২) ডিসিস্টের পকেট থেকে নগদ ৫,০০০/- টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ডিসিস্টের বড় ভাইকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তার ভাইকে মদনপুর আল-বারাকাহ হাসপাতালে নিয়া গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে ঢাকার আগারগাঁও নিউরো সাইন্স হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এরপর ডিসিস্টকে উক্ত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে আইসিইউ’তে ভর্তি করেন। উক্ত ডিসিস্ট ২০/০৫/২০২৬ তারিখ সকাল ০৬.৪১ ঘটিকার সময় উল্লেখিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। অতঃপর ডিসিস্ট এর লাশ সোনারগাঁও থানাধীন নয়ানগর এলাকায় নিয়ে আসলে ২০/০৫/২০২৬ তারিখ সকাল ১১.১০ ঘটিকায় ডিসিস্ট এর সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মৃতদেহ সরকারি ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ এর মর্গে প্রেরণ করা হয়। ডিসিস্টের মৃত্যুর ফলে পূর্বের মারামারি ও চুরির ঘটনায় রুজুকৃত মামলাটি একটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মামলার ঘটনার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদানের ইচ্ছা ব্যক্ত করলে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক লিপিবদ্ধ করার আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
Leave a Reply