নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান এফ কে নিটেক্স লিমিটেড-এর ভাড়া নেওয়া কারখানা ভবনে তালা দেওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকালে শহরের ড্রিঙ্ক অ্যান্ড ডাইন রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফারুক খান অভিযোগ করেন, কারখানায় তালা দেওয়ার কারণে তাদের সব ধরনের শিপমেন্ট কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে উৎপাদন, রপ্তানি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক-কর্মচারীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে বিসিক শিল্পনগরীর বি-৩৮১ নম্বর প্লটের ভবনটি নিউ বাতেন হোসিয়ারির মালিক মরহুম আব্দুল বাতেনের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে এফ কে নিটেক্স লিমিটেড গার্মেন্টস ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ লাখ টাকা ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিসিকের নীতিমালা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে পুরো ভবনটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। আব্দুল বাতেনের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারীরাও একইভাবে ভবনটি ভাড়া দিয়ে আসছেন। অথচ বিসিকের বিধিমালা অনুযায়ী শিল্প প্লট বরাদ্দের মূল উদ্দেশ্য শিল্পকারখানা পরিচালনা করা এবং ভাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ফারুক খান বলেন, বিসিক কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ভাড়া নিয়মিতকরণ এবং প্লট বরাদ্দ বাতিলের নোটিশ দিয়েছে। তাঁর দাবি, বরাদ্দপ্রাপ্তরা নিজেরা কখনো শিল্পকারখানা পরিচালনা না করে শুরু থেকেই ভবনটি ভাড়া দিয়ে আসছেন, ফলে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে এফ কে নিটেক্স লিমিটেড আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দেওয়ানি মামলা (নং-১৫২/২০২৬) দায়ের করেছে। আদালত ইতোমধ্যে বিবাদীদের নোটিশ জারি করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিসিক কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্লট বরাদ্দ আইনানুগভাবে এফ কে নিটেক্স লিমিটেডের অনুকূলে দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি সব নিয়ম মেনে চলবে এবং প্রাপ্য রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দেবে বলে আশ্বাস দেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত ভাড়ার দাবিকে কেন্দ্র করে গত ৮ জুলাই কারখানার ফ্লোরে অবৈধভাবে তালা লাগানো হয়েছে। এ ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পাশাপাশি ফতুল্লা থানা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ফারুক খান বলেন, বর্তমানে কারখানার ভেতরে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত বিপুল পরিমাণ পণ্য আটকা পড়ে আছে। দ্রুত তালা খুলে কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা না হলে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। এতে সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের রপ্তানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “গত ৮ জুলাই সকালে কারখানায় তালা লাগানোর পর বিসিক কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হলে তারা সিভিল মামলা করার পরামর্শ দেয়। মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত কারখানার তালা খোলা হয়নি।”
তিনি বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠানের শুধু ক্ষতি না হোক, দেশের একটি চলমান শিল্প প্রতিষ্ঠান যেন বন্ধ না হয়—এটাই আমার প্রত্যাশা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply