বিশ্বের সংবাদদাতা:
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা একে হীরা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানে আওয়ামিলীগ সরকারের পতনের পরপর এলাকায় নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে হীরা। তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন এর ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠে হীরা। ছাত্র হত্যা মামলায় এলাকার নিরিহ মানুষদের নাম দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে হীরার নামে। এমনকি এ নিয়ে সংবাদ ও প্রকাশিত হয়েছে। নাসিক ৪নং ওয়ার্ডে যুবদল নেতা মাহাবুব, কৃষকদল নেতা জাকির ও কামরুল হাসান সেন্টু কে নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে হীরা। এলাকায় তখন তাদের ৪খলিফা নামে উপাধি দেওয়া হয়। ৪নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং আবাসিক এলাকা ও ভূমি পল্লী আবাসিক এর নিয়ন্ত্রণ নেন এই ৪খলিফা। হীরার নেতৃত্বে আবাসিক এলাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ থেকে শুরু করে সকল ধরনের অবৈধ কাজের মাধ্যমে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করতো হীরাবাহিনি। তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াসউদ্দিন এর আস্হাভাজন হওয়ায় তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলার সাহস পায়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ -৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে গিয়াসউদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে। তখন নিজের পদ বাচাতে বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান এর পক্ষে লোক দেখানো নির্বাচনী প্রচারণা চালান হীরা। কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ দিনের বেলায় ধানের শীষের প্রচারণা করলেও রাতের অন্ধকারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতো হীরা।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপির এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান এর নাম ভাঙ্গিয়ে আবারো বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে ছাত্রনেতা হীরা।
এলাকায় আবরো আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া হয়ে উঠে হীরা। এবার বোল পাল্টিয়ে নিজেকে বর্তমান সাংসদ মান্নানের লোক দাবি করে এবং এলাকায় বিভিন্ন ব্যানার পোস্টার লাগায়।
সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং এর কয়েকজন বাসিন্দা জানান রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে হীরা নিজের ইন্টারনেট এর লাইন নিতে বাধ্য করে এই এলাকার ভাড়াটিয়াদের। এমনকি অন্যের লাইন কেটে জোরপূর্বক নিজের ইন্টারনেট সংযোগ দেয় ভাড়াটিয়াদের বাসায়। বর্তমান সাংসদ মান্নানের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় একাধিক জায়গায় অবৈধ মেলার আয়োজন করে হীরা। তার এমন কার্যক্রমে এলাকার মানুষের মাঝে দিনেদিনে বাড়ছে আতঙ্ক।
হীরার বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কাজের ইতি টানতে নারায়ণগঞ্জ -৩ আসনের এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান সহ জেলার ডিসি এবং এসপির হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে হীরার মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোনটা রিসিভ করেন এবং বলেন আমি সিএনজির মধ্যে আছি আপনার সাথে পরে কথা বলবো।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজারুল ইসলাম মান্নানের whatsapp নাম্বারে ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply