এম সাইফুল ইসলামঃ
সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা বন্ধ করা হোক
গলায় আইডি কার্ড, হাতে মোবাইল বা ক্যামরা অথবা নিজেদের ইচ্ছেমতো বানানো লোগো দিয়ে বুম,ফেইসবুক, ইউটিউব একাউন্ট থাকলেই কি সাংবাদিক?
দেশের অলিগলি থেকে শুরু করে সরকারি বেসরকারি অফিস সবখানেই এখন কথিত ভুয়া ‘সাংবাদিকদের’ দৌরাত্ম্য। হাতে ক্যামেরা বা বুম, নেই নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা; শুদ্ধ করে লিখতে পড়তে পারে না এমনকি ‘Journalist’ বানান করতেও যাদের ঘাম ছুটে যায় এবং PRESS এর পূর্ণরুপ জানে না,কোনো প্রশিক্ষণ নেই তাদের গলায় ঝুলছে চকচকে আইডি কার্ড। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি এদের সাংবাদিকতার ব্যাসিক প্রশ্ন করা হলে ৫টা প্রশ্নের উত্তর ও এরা দিতে পারবে না।
কী ঘটছে আসলে? শিক্ষাগত যোগ্যতার বালাই নেই, ৫ম শ্রেণী, ৮ম শ্রেণী পাস করেও অনেকে স্রেফ কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে ভুঁইফোড় পোর্টাল বা অখ্যাত পত্রিকার কার্ড সংগ্রহ করছে। ৫০০০ টাকায় কার্ড কিনে এরা নিজেদের ‘বড় সাংবাদিক’ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হচ্ছে। ফেসবুকে ভিডিও করে ছেড়ে, আর নামের আগে সাংবাদিক লিখলেই সাংবাদিক হওয়া যায় না। এদের কারণে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরা আজ সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশবাসী আজ এই ‘পেশাদার অপরাধীদের’ যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ।
কারো গলায় আইডি কার্ড দেখলেই বিভ্রান্ত হবেন না। তাদের কথাবার্তা, আচরণের ধরণ এবং তারা কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে তা যাচাই করুন। সাংবাদিকতা কোনো কার্ডের ব্যবসা নয়, এটি একটি দায়িত্বশীল পেশা। এই নামধারী অপ-সাংবাদিকদের রুখে দেওয়ার সময় এসেছে। প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—যত্রতত্র আইডি কার্ড বিক্রি বন্ধ হোক এবং এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
#সচেতনতা #অপসাংবাদিকতা_রুখে_দাঁড়ান #ভুয়া_সাংবাদিক #সাংবাদিকতা
Leave a Reply