নিজস্ব প্রতিবেদক :
ওই চালাক ও চতুর ব্যক্তিটির নাম মনিরুল ইসলাম। যিনি কিছুদিন আগেও একটি প্রতিষ্ঠানে সামান্য সেলস ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে মনির বনে যান পায়রা কনজিউমার এবং পায়রা গ্রুপের মালিক। এমনকি নিজেকে পরিচয় দেন পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা এবং কখনো কখনো নিজেকে বিএনপি নেতাও পরিচয় দিয়ে থাকেন মনির। মনির পায়রা কনজিউমারের নামে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন পণ্য দেবার নাম করে। সেই টাকা আত্মসাৎ করে সাধারণ মানুষদেরকে পণ্য তো দেয়নি নি বরঞ্চ বছরের পর বছর টাকা দেবার কথা বলে মানুষগুলোকে ভিক্ষুকের মত ঘুরাচ্ছেন। সেই প্রতারণার টাকায় ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় রিসোর্ট কিনেছেন তিনি। একই সাথে পায়রা কনজিউমার এবং পায়রা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। অথচ তাদেরকে ঠিকমতো বেতনও দেন না মনির খান। অনেকে পেটের দায়ে চাকরি করতে এসে নিঃস্ব হয়ে চলে যেতে হচ্ছে। বেতনের ব্যাপারে কেউ মুখ খুললে পারিশ্রমিক ছাড়া চাকরিচুত করছে পায়রা গ্রুপের এই মনির। অর্থাৎ এই চালাক ও চতুর মনিরুল ইসলাম পায়রা কনজিউমারের নামে জাল জালিয়াতি, প্রতারণা ও টাকা আত্মসাৎ এর একটি মহাউৎসবে মেতে উঠেছে মনির। নারায়ণগঞ্জ সহ বিভিন্ন জেলায় পায়রা গ্রুপের বিভিন্ন ফ্যাক্টরি রয়েছে বলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছেন তিনি। অথচ মগবাজারে একটি অফিস ছাড়া আর কিছুই নেই এই কোম্পানিটির। বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী কম দামে কিনে সেই পণ্যের গায়ে পায়রার মোরগ লাগিয়ে নামমাত্র বাজারে বিক্রি করছে পণ্য। একই সাথে বিভিন্ন মুখরোচক বিজ্ঞাপন দিয়েও মানুষকে প্রতারণা করেন মনির। সেই সাথে তার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বিভিন্ন টিভিতে দিয়েও সেই টাকা নিয়েও প্রতারণা করেছেন এমন অভিযোগো রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতো প্রতারণা করার পরেও বীরদর্পে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে পায়রা গ্রুপে মালিক মনির।
এই মনিরুল ইসলাম পটুয়াখালী জেলার দুমকি থানাধীন মুরাদিয়া এলাকার আব্দুল মান্নান খানের ছেলে। ধারাবাহিক তৃতীয় পর্বের প্রথম প্রতিবেদনে এটা। পরবর্তী পর্বে থাকছে মনিরুল ইসলামের প্রতারণা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ বিষয়ে একাধিক ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন তাদেরকে কিভাবে হয়রানি করেছে পায়রা গ্রুপের মালিক মনিরুল ইসলাম। অন্য দেওয়ার কথা বলে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষকে প্রলোভন দেখে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পায়রা গ্রুপ বের এমডি মনিরুল ইসলাম জানান, আমি আপনাদের সাথে এ বিষয় নিয়ে পরে কথা বলবো এবং কৌশলে তিনি দেখা করার কথা বলে ফোনটা কেটে দেন।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জানান, এ ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে যারা মানুষকে ধোঁকা দেন এবং তাদের নগদ অর্থ আত্মসাৎ করে নেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বেশ কয়েকটি কোথায় রয়েছে। ৪২০ ধারায় প্রতারণার মামলা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা করা যেতে পারে। একই সাথে চেক জালিয়াতির মামলাও ঐ প্রতারকের বিরুদ্ধে দেওয়া যেতে পারে।
Leave a Reply