আব্দুল্লাহ আল মামুনঃ
নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাজারে লেগেছে আগুন : বাজারদর নাগালের বাইরে নিম্ন আর মানুষের।
রমজানের এই নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম যেন নাগালের বাড়ি চলে যায় জনসাধারণের। এমন দৃশ্য যুগ যুগ ধরে দেখে আসছে বাংলাদেশের মানুষ। বিগত দিনে সরকারগুলো বড় বড় বক্তৃতা দিয়েও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমাতে সক্ষম হননি। তবে এবারের বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসার পর সাধারণ মানুষের চাওয়া পাওয়া তাদের কাছে একটু বেশি। তবে চাওয়া পাওয়া বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কতটুকু পূরণ করতে পারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্দুগতির কারণে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। আর রমজান আসলে দুর্বল্যের দাম বেড়ে যায় প্রায় দ্বিগুন। আরে যে দাম বাড়ার পিছনে সিন্ডিকেট কেই দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ। বরাবরের মতো সিন্ডিকেটের কাছে অনেক অংশে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জিম্মি হয়ে যান।
চলুন এবার দেখা যাক ২০২৬ সালের রমজান মাসের ধ্রুব মূল্যের কি রকম মূল্য রয়েছে-
প্রথমেই দেখা যাক চাল, ডাল,ভোজ্য তেল, আদা-রসুন ও পেঁয়াজের দাম কেমন। চাল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের ৭০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। মসুরি ডাল প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। ভদ্র তেল যেন সোনার হরিণ। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায়। অপরদিকে বোতল জাত সয়াবিন তেল বাজারে পাওয়া দুষ্কর। অল্প কিছু দোকানে বোতল জাত সয়াবিন তেল পাওয়া গেলেও তার দাম প্রতি লিটার ২১০ থেকে ২১৫ টাকা। আদা রসুন দেশীটা ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। আর আমদানি করাটা ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। পেঁয়াজের দাম ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আলুর দাম যদিও ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে গরুর গোস্তের দাম ৮০০ থেকে ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, পাকিস্তানি কর্ক ৩৫০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা,লেয়ার মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচা বাজার ৭০ থেকে ১২০ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্য বেগুনের ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বেগুন। আর লেবুর তো তুলনাই নেই,বাজারে পরিমাণে কম থাকলেও দাম তার স্বর্ণের চেয়েও বেশি। পতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ১০০ থেকে ২০০ টাকা দরে। এছাড়া মাছের বাজারে লেগেছে আগুন। বেশিরভাগ চাষের মাছ মিললেও দাম দিগুন। অপরদিকে নদীরও সাগরের মাছের পরিমাণ কম থাকলেও মূল্য আকাশ পাতাল।
শহরে বাজার করতে আসা বেশ কয়েকজন মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৫০০০ টাকা নিয়ে বাজার করতে এসে চাহিদা মত জিনিস কেনা যায় না। এমনকি ধার দেনা করে বাজার করতে হয় বলেও জানান অনেকে। এদিকে রমজান মাস উপলক্ষে সকলেরই বাড়তি খরচ হয়। তাইতো রমজান মাস আসলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের মানুষকে চরম হতাশায় পড়তে হয়। তাই তারা বর্তমান সরকারের কাছে প্রত্যাশা করেছেন যত দ্রুত সম্ভব লাগাবেন দুর্বলের বাজার খেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থানে থাকার আহ্বান জানান তারা।
Leave a Reply