স্টাফ রিপোর্টারঃ
বরিশালের পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার অন্যতম ভূমিদস্যু ও শীর্ষ সন্ত্রাসী শেখ মফিক ও শেখ টিপু বাহিনী ৩-৪ হাজার বিঘা খাস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি ও ৮টি প্রাকৃতিক খাল জবরদখলসহ তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ নাজিরপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ভূমিদস্যু শেখ মফিক ও শেখ টিপু’র সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের শাসনামল ২০১১ সাল থেকে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলাধীন পেনাখালী ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় ৩-৪ হাজার বিঘা জমি শ্রেনী পরিবর্তন করে জোরপূর্বক দখল করে বড় লিজের বানিয়েছে।
এছাড়াও পেমাখালী, মোল্লা, ফরাজী,ডুমেরো ও নতুন খালসহ অত্র এলাকার ৮টি খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করে অবৈধভাবে ড্রেজিং করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরির কারনে এলাকার ফসলি জমি নষ্ট করাসহ চলাচলের রাস্তা ধ্বসে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় এলাকার শত শত পরিবার। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হল, উল্লেখিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর এই অবৈধ দখল সাম্রাজ্য এবং তাদের সকল প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বর্তমান সরকারের আমলেও ধারাবাহিকভাবে চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজিরপুর থানাধীন মালিখালী ইউনিয়নের পেনাখালী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ভূমিদস্যু শেখ আকু মিয়ার ছেলে শেখ মফিক ও শেখ টিপু পিরোজপুর জেলার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু ও মাফিয়া ডন হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাদের অন্যতম সহযোগী রফিক শেখ, পাগলা সুমন ও ফকির ইসমে আজম সহ নাম উল্লেখিত প্রায় ১৫-২০ জনের উল্লেখযোগ্য স্বশস্ত্র বাহিনী রয়েছে তাদের। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরোও ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী শেখ মফিক ও শেখ টিপু।
২০১১ সাল থেকে নাজিরপুর উপজেলার পেনাখালী এলাকার বিভিন্ন সরকারি প্রাকৃতিক খাল ও সরকারি খাস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন অসংখ্য জমি জবর দখল করে উল্লেখিত জেলায় একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এই কুলাঙ্গার ভূমিদস্যু শীর্ষ সন্ত্রাসীরা।
এলাকার স্থানীয়রা জানান, ২০২৩ সালে মালিখালী ইউনিয়নের পেনাখালী এলাকার উল্লেখিত সরকারি খাস বিল এবং স্থানীয় নবাবী পরিবারের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জবরদখল করে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করে কৃত্তিমভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি সহ উক্ত জায়গার সকল প্রকার প্রাকৃতিক গাছপালা কেটে পরিবেশ ধ্বংস করলে, এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মহাসিন শেখ প্রতিবাদ করতে গেলে, তাকে পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে নৃশংসভাবে হত্যা করে পেনাখালী গ্রামের একটি খালে ফেলে দেয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
পরবর্তীতে উক্ত হত্যাকান্ডে জড়িত প্রধান আসামি শেখ মফিক সহ সকল আসামিরা তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতাদের সহযোগিতায় মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়। উক্ত বিষয়ে এলাকার স্থানীয় স্বনামধন্য ব্যক্তি দেলোয়ার ফরাজী, মহাসীন শেখের হত্যার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললে, তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়/ভীতি দেখিয়ে তার নিকট থেকে ৪ লক্ষ টাকা নগদ হাতিয়ে নেয় তারা।
এমন কি উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়াই হাসলি জমি ও জলাশয় থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন করে আসছে। যার ফলে স্থানীয় শত শত কৃষক পরিবারের ফসলি জমি ধসে পড়ে ঐ সকল কৃষক পরিবারগুলো সর্বশান্ত হতে বসেছে। এসকল মাটি ও বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা ভেঙে গিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এমনকি এই পথে চলাচলকারী নিরীহ নারী ও শিশুদের উপরে শারীরিক ও মানসিকভাবে যৌন হয়রানিসহ এই পথে চলাচলকারী নারীদেরকে ইভটিজিং সহ অশালীন মন্তব্য করার প্রমান রয়েছে উক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।
কেউ এ সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে, ভূমিদস্য ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মফিক ও টিপু’র সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর অতর্কিত হামলা, জুলুম নির্যাতন সহ নানাভাবে অন্যায় অত্যাচারের গজব নেমে আসে তাদের উপরে।
এমনকি তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের রাম রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে মফিক ও টিপু বাহিনীর প্রতিটি সদস্যই সর্বসময়ের জন্য সশস্ত্র অবস্থায় এলাকায় মহড়া চলমান রেখেছে।
স্থানীয়রা আরোও জানান, এই সকল অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে বিগত চার বছর যাবত স্থানীয় ভূমি অফিসে একাধিকবার লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করলেও মালিখলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার সহ উক্ত ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তাদের জোগ সাজছে অবৈধভাবে আর্থিক লেনদেনের সুবিধা নিয়ে মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে উল্টো তাদেরকে এসকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করে যাচ্ছে। উক্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসন সহ থানায় একাধিকবার লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করলেও অপরাধীরা যেকোনো উপায়ে অথবা মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে ও পেশি শক্তির জোরে যেকোনো ভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে পেনাখালী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারের কৃতি সন্তান, তরুণ উদ্যোক্তা, বিশিষ্ট সমাজ সেবক হিসেবে পরিচিত জনাব মহিউদ্দিন শেখ, শীর্ষ সন্ত্রাসী মফিক ও টিপু বাহিনীর অবৈধ দখলবাজী, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে এলাকার নিরীহ ও নির্যাতিত বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে ঐ সকল অন্যায় অপরাধমূলক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায়, তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে আসছে সন্ত্রাসী মফিক ও টিপু নিজেই।
এমনকি মহিউদ্দিন শেখ’কে হত্যার হুমকি স্বরূপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্টে উল্লেখ্য করা হয়েছে যে, মহিউদ্দিন শেখ’কে জীবিত ধরিয়ে দিতে পারলে ২লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিনিয়তই তাকে মোবাইলের মাধ্যমে মিথ্যা মামলার ভয়/ভীতি প্রদর্শন ও স্বপরিবারে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি সহ এলাকায় বসবাস করতে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এবিষয়ে প্রতিবাদকারী শেখ মহিউদ্দিনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান,উল্লেখিত সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন পূর্বক, সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মাননীয়, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রণালয় সচিব, উপ মহা পুলিশ পরিদর্শক, র্যাব-৮ অধিনায়ক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি আরোও জানান, উল্লিখিত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসন সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত ভূমিদস্যু ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এবিষয়ে নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মাহমুদ আল ফরিদ ভূইয়ার নিকট তার মুঠোফোনে ফোন করে শেখ মফিক ও শেখ টিপু বাহিনীর দখল সাম্রাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা আমাদের বিষয় না। দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিয়েছি। সুতরাং উক্ত বিষয়ে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন।
পাশাপাশি উক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারী অপরাধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের অগ্রগতির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি কারো সাথে কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী ফৌজদারি অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমান থাকে তাহলে ভুক্তভোগী আদালতে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারে। আমরা সেই অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ ও সহযোগিতা করব।
এমতাবস্থায় এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত হলো, সন্ত্রাসী মফিক ও টিপু বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ সহ তাদের নিকট হইতে জবরদখল কৃত সমস্ত কৃষি ও খাস জমি ও প্রাকৃতিক খাল বিল উদ্ধারপূর্বক মহসীন হত্যাকাণ্ডের বিচার সহ সমস্ত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও অবৈধ দখলদারিত্ব নির্মূলে প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
(ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব।)
Leave a Reply