নিজস্ব প্রতিবেদক :
গত কয়েক মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলা জুড়ে নানা অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি,মাদক-সন্ত্রাসী ও খুনসহ ধর্ষণের মতো ঘটনায় পুরো জেলাবাসীকে শংকিত করেছে। এমনকি অপরাধীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আঘাত করে তাদের কাছে থাকা অস্ত্র ছিনতাই করে নিয়ে যায় অপরাধীরা। যদিও বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করে হাতেগোনা কয়েকজন অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এতে করে জেলা জুড়ে ব্যাপকভাবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে দাবি করছেন সচেতন মহল।
নানা অপরাধের পাশাপাশি মাদক এখন যেনো বৈধ জিনিসপত্রের মত প্রকাশ্যে ক্রয় বিক্রয় চলছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার বিভিন্ন এলাকা এখন মাদকের জোয়ারে ভাসছে। একই সাথে একই চিত্র দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, বন্দর থানা, সোনারগাঁ থানা, আড়াই হাজার থানা এবং রুপগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে মাদক কেনাবেচা। মাদকের টুকিটাকি অভিযান হলেও ধরা পড়ছে খুচরা ও ছিচকে মাদক ব্যবসায়ীরা। মুখোশের আড়ালে রয়ে যাচ্ছে গডফাদাররা। আর বেশিরভাগ গডফাদাররা থাকেন যখন যে দল ক্ষমতায় থাকেন সেই দলের কিছু অসাধু নেতা কর্মীদের ছত্র ছায়ায়।
জেলাবাসী বলছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলায় এমন একজন পুলিশ সুপার দেওয়া হোক যিনি নির্ভয়ে এবং সাহসিকতার সাথে জেলায় সংঘটিত সকল অপরাধ এবং অপরাধীকে নির্মূল করতে পারেন। তারা এও মনে করেন নারায়ণগঞ্জ জেলায় মাসুদ আলম এর মত এসপি আসলে জেলা থেকে নানা প্রকার অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব হবে।
সচেতন মহলের ধারণা, ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলায় সাতক্ষীরার মতো জঘন্যতম ঘটনা ঘটেছিলো।সেই সময়ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরাও ওই ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই সময়ের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা যেন আতঙ্কের আরেক নাম হিসাবে সারাদেশে পরিচিতি লাভ করেছিলো। এরপর থেকে আস্তে আস্তে সেই দুর্নাম কিছুটা কমে আসলেও। গত ২০২৪ এর পর ৫ আগস্ট এর পর থেকে আবারো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। যদি ওই সময়ে আইশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অগোছালোভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ জেলায় জেলা পুলিশে আমুল পরিবর্তন ঘটে। আইসিং করা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর হাতে দমন করতে পারেনি অপরাধীদের এমনটাই বলছেন জেলার সত্যের মহল। তবে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি না ঘটলে এমনকি অপরাধীরা কঠিনভাবে শাস্তির আওতায় না আসলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
Leave a Reply