নিজস্ব প্রতিবেদক::
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ২৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এনায়েত হোসেন বিগত হাসিনা সরকারের অন্যতম দোসর নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সাবেক সাংসদ সেলিম ওসমানের অন্যতম হাতিয়ার এবং সাংসদ শামীম ওসমানের ছোটভাই হিসেবেই সর্বজন পরিচিত ছিলেন। এমনকি এই এনায়েত ততকালীন আওয়ামী লীগের আমলপ ওই প্রভাবশালী সাংসদের ছত্র-ছায়ায় বিশেষ প্রভাব বিস্তার সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কখনও বিএনপির রাজনীতি করেছেন তাও বলতে পারেনা স্থানীয়রা। আওয়ামী দোসরদের সাথে আতাতের রাজনীতির অন্যতম দাবীদার এ এনায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যার কয়েকটি মামলা আসামী। বর্তমানে বন্দরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলের সাথে থেকে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত মাসুদুজ্জামানকে ক্রেষ্ট প্রদান করছেন আওয়ামী এ ডেভিল। তবে স্থানীয়দের মতে, বন্দরের অন্যতম আতাতকারী আতাউর রহমান মুকুলের মাধ্যমে আবারও বিএনপি ব্যানার গায়ে জড়িয়ে মাঠে ফিরতে উঠে-পড়ে লেগেছেন ওসমান পরিবারের অন্যতম সাবেক কাউন্সিলর এনায়েত হোসেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকে জানান, সাবেক সাংসদ সেলিম ওসমানের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবেই কাজ করতেন এনায়েত হোসেন। বিগত সময়ে সাংসদ নির্বাচনে সেলিম ওসমানের পক্ষে থেকে দিনের ভোট রাতের দেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বুকে সেলিম ওসমানের প্লেকার্ড ঝুলিয়ে বন্দরের কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেয়ার কারিগড় হিসেবেও তার ব্যাপক পরিচিতি ছিলো সে সময়ে। সেলিম ওসমানের পক্ষে লাঙ্গলের জন্য ভোট চেয়ে প্রকাশ্যে ভোট প্রার্থনা করেছিলেন তিনি যা বিগত সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত ছিলো। এবং নির্বাচনের আগের দিন এনায়েতের বাড়ির সামনে দুটি গরু জবাই করে তা দিয়ে ভুড়িভোজের আয়োজন করেছিলেন তিনি। সেলিম ওসমানের আর্শীবাদে সে সময়ে তিনি সোহাগপুর টেক্সটাইল,চায়না ব্যাটারী কোম্পানী ও গ্যাস কোম্পানীসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান ছিলো তার জিম্মায়। বর্তমানে ভোলপাল্টে আতাউর রহমান মুকুলের মাধ্যমে এমপি প্রার্থী মো.মাসুদুজ্জামানকে ক্রেষ্ট উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা দিয়ে নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়ে পুর্বের ন্যায় বর্তমানে আধিপাত্য বিস্তারের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন তিনি। পুর্বে সেলিম ওসমানের সাথে ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে নিজেকে তার লোক এবং বর্তমানে আতাউর রহমান মুকুলের পাশে দাড়িয়ে এমপি প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের সাথে ছবি তুলে তা দিয়ে পুর্বের ন্যায় বর্তমানেও নিজেকে এমপি প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের একনিষ্টকর্মী হিসেবে জাহির করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবী, সাবেক কাউন্সিলর এনায়েত হোসেনের বহুরুপী চরিত্রের অধিকারী এবং নিজের স্বার্থ হাসিল করা ছাড়া অন্য কিছু না। স্বার্থের জন্য একেক সময় একেক জনের সাথে সর্ম্পক গড়ে তুলে টাকা কামানোটাকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলেছেন এনায়েত হোসেন। সুবিধাবাদী এনায়েত হোসেনের এরুপ কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ সাধারন মানুষ। তারা আরও বলেন, এনায়েত হোসেন বিগত সময়ে ওসমান পরিবারের তাবেদার সেজে বন্দরের প্রতিটি স্থানেই গড়ে তুলেছিলেন অপরাধের জগত। বর্তমানে সদ্য বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার প্রাপ্ত আতাউর রহমান মুকুলের আর্শীবাদে আবারও বিএনপিতে প্রবেশ করে নিজের অপরাধ জগত ধরে রাখতে মাসুদুজ্জামানকে ক্রেষ্ট উপহার দিয়ে তার পাশে দাড়িয়েছেন। তারা বলেন,এনায়েত হোসেনের মত ধুর্ত ভুমিদস্যু,চাদাঁবাজ কিভাবে বিএনপিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে তা কারোর বোধগম্য হয়না।
সেলিম ওসমানের আস্থাভাজন ধুর্ত এনায়েত হোসেন কিভাবে বিএনপির পরিচয় দেন এবং এমপি প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের মত জনপ্রিয় নেতার সম্মান ক্ষুন্ন করতে এনায়েত হোসেন তাকে ক্রেষ্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে তার নাম বিক্রি করে অনৈতিকভাবে টাকা কামানো পথ হিসেবে নিয়েছেন এমনটাই দাবী ২৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা হতবাক।
অনতিবিলম্বে এনায়েত হোসেনের মত বহুরুপী ওসমানীয় দালাল যেন বিএনপিতে অনুপ্রবেশ না করতে পারে সেজন্য এমপি প্রার্থী মাসুদুজ্জামান ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সুদৃষ্টি কামনা করছেন ২৫ নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের বিএনপির নেতাকর্মীরা।
Leave a Reply